শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
আশুলিয়া ও আড়াইহাজারে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতিতে ‘জড়িত’ ৯ জন গ্রেপ্তার সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সাভার হাইওয়ে পুলিশের উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি আশুলিয়ায় চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা: ভাংচুর আহত ৭ ২১শে আগস্ট ছিল ১৫ই আগস্টের কুশীলবদের নীলনকশার অংশ ঢাকায় কঠোর বিধিনিষেধ লঙ্ঘনে ৩৮১ গ্রেফতার অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ এমপি আর নেই প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের চলমান ছুটি ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বৃদ্ধি নিয়মনীতিহীন আইপি টিভি’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী শোকের মাসের কর্মসূচি স্বাস্থ্য বিধি মেনে পালনের আহ্বান জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রীর ফেলোশিপ পাবেন ৫৫ জন

২১শে আগস্ট ছিল ১৫ই আগস্টের কুশীলবদের নীলনকশার অংশ

  • সর্বশেষ আপডেট রবিবার, ২২ আগস্ট, ২০২১, ১২.০৪ এএম
  • ১০২ বার পড়া হয়েছে

ব্যারিষ্টার ইমাম হাসান ভূঁইয়াঃ

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার রূপকার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের ১৬ জন সদস্যকে একাত্তরের পরাজিত শক্তি দেশীয় ও বৈদেশিক চক্রান্তের মাধ্যমে এক দল পথ ভ্রষ্ট পাকিস্তানি এজেন্ট সেনা সদস্যদের সহায়তায় নিঃসংশ ভাবে হত্যা করেছিল। খুনিদের হাত থেকে রেহাই পায়নি সেদিন ১০ বছরের শিশু বাচ্চা শেখ রাসেল অথবা অন্তঃসত্ত্বা আরজু মনি।

ঘাতকদের উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নাম ইতিহাসের পাতা থেকে সম্পূর্ণরূপে মুছে ফেলা। স্বাভাবিকভাবে ভেবে দেখুন আমার সাথে যদি কারও শত্রু থাকে আমি হয়তো তার ক্ষতি করার চেষ্টা করব। কিন্তু যখন তার পুরো পরিবার বা বংশ কে ধ্বংস করা হয় তখন বোঝা যাবে এটা না কোন নেতৃত্বের কোন্দল না কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার। এটা ছিল সমগ্র বাঙালি জাতির স্বাধীনতা ও অগ্রগতি কে রুখে দিতে স্বাধীনতা পরবর্তী চার বছর পর সময়ের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এক বিরাট পরিকল্পনা।

সেদিন একই সাথে হামলা হয়েছিল ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধুর বাসায়, শেখ ফজলুল হক মনির ধানমন্ডির বাসায় এবং শহীদ সেরনিয়াবাত এর বাসভবনে। একই সাথে তিনটি জায়গায় একটি দেশের প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ মানুষকে হত্যা করার পরিকল্পনা নিশ্চয়ই কোন সহজ কাজ নয়। আপনি যখন আপনার শত্রুর সাথে জনপ্রিয়তা সফলতা এবং রাজনৈতিকভাবে লড়াই করে বারবার ব্যর্থ হবেন তখনই তার পুরো পরিবার নিঃশেষ করার মতন এরকম ঘৃণিত অপরাধের দ্বারস্থ হয়।

নতুবা রাজনৈতিকভাবে বঙ্গবন্ধুকে মোকাবেলার জন্য চক্রান্তকারীরা জানতো কোন নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলার মাটিতে তৎকালীন বঙ্গবন্ধুকে হারানো সম্ভব ছিল না। দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধে বাঙালি জাতির আত্মত্যাগ প্রত্যয় ও দেশপ্রেমের কাছে ১৬ ই ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় দেশীয় আন্তর্জাতিক পরাশক্তি। অথচ সেই সময়ে বাঙালি জাতি ছিল নিরস্ত্র বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিরক্ষর এবং অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল। কিন্তু তাদের বিশ্বাস ও দেশপ্রেমের কাছে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে হানাদার বাহিনী বিজয় লাভ করতে পারেনি।

অনেক দর্শক কেটে গেছে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে হত্যার ছয় বছর পর ১৯৮১ সালে দিশেহারা বাঙালি জাতি নেতৃত্বশূন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দেওয়ার লক্ষ্যে দেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু তনয়া গণতন্ত্রের মানস কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন ত্যাগ-তিতিক্ষার পরে আসে গণতন্ত্রের মুক্তি। শুরু হয় সংসদ নির্বাচন।

তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যার ২১ বছর পরে আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয় বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সেই থেকে আর পিঠের পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এক অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায়। অতি দরিদ্র থেকে শুরু করে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। পশ্চিমা বিশ্ব যে বাংলাদেশকে একদিন বলেছিল তলাহীন ঝুড়ি সেই বাংলাদেশ আজ বাংলাদেশ আজ বিশ্ববাসীর কাছে এক বিস্ময়।

শত প্রতিকূলতা মহামারী দুর্নীতি কে বোকা বেলা করে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখে চলেছেন।বাংলাদেশের সেই উন্নয়ন বিশ্ববাসীর কাছে দৃষ্টিগোচর হয়নি যার ফলস্বরূপ গত ১০ বছরে জননেত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন মর্যাদায় ভূষিত হয়েছেন বারবার। তারই অবদানের জন্য সমগ্র বিশ্বে নারী নেতৃত্বের তিনি এখন বিশ্ববাসীর কাছে প্রথম সারির একজন। শুধু তাই নয় দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে তিনি ঈর্ষণীয় সফলতা নিয়ে আছেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

কিন্তু এইসব সফলতার গল্প শত্রুপক্ষ যেমন মেনে নিতে পারেনি ১৯৭১ সালে তেমনি মানতে পারছে না ওর ১৯৯৬ সালের পর থেকে। ১২ বার করে এই পর্যন্ত ২১ বার যার ফলে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে হত্যা চেষ্টা করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা ২১ আগস্ট ২০০৪ সালে। ঠিক ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এর মত বঙ্গবন্ধু কন্যাসহ আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতাদের সাথে পুরো আওয়ামী লীগ পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য সাজানো হয়েছিল এক মঞ্চ।

সেদিন সরকার সকল রকম সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সেই নাটক এর দৃশ্যায়ন করে সমাপ্তি করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা ভুলে যাই সর্বশক্তিমান পরাক্রমশালী মহান আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ ছাড়া গাছের একটি পাতাও নড়ে না। সেদিন নিহত হয়েছিল সাবেক রাষ্ট্রপতি জনাব জিল্লুর রহমানের স্ত্রী সর্বজন শ্রদ্ধেয় নেত্রী আইভি রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও দর্শক সারিতে বসা কর্মীবৃন্দ আহত হয়েছিল শত শত নিরীহ মানুষ। অনেকেই ভারী আছেন হাত পা সহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যার বোঝা তারা আজও বয়ে যাচ্ছেন। সে হামলায় গ্রেনেডের স্প্রিন্টার আঘাত করেছিল বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকেও যার ফলে আজও চোখ এবং কানের চিকিৎসা নিয়মিতই করাতে হয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কে যারা একাত্তরের সফল হতে পারেনি সম্মুখযুদ্ধে যারা পঁচাত্তরে চক্রান্তের মাধ্যমে সফলতা চেয়েছিল।

আজও টিয়ে কিভাবে ২০০৪ সালে তারা চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। কিন্তু চক্রান্ত থেমে থাকেনি তার পরেও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য অপচেষ্টা চলমান আছে।তাই আমি মনে করি এখন সময় এসেছে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে ডিজিএফআই এনএসআই সহ এসএসএফ সকল বাহিনীকে সময়ের প্রয়োজনে আরো আধুনিকায়ন করা এবং স্বাধীনতা স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির সকল অপচেষ্টা রুখে দিতে তাদেরকে সর্বদা প্রস্তুত রাখা। প্রয়োজনে বাহিনীর সদস্য বৃদ্ধি বিদেশে ট্রেনিং সহ সকল পদক্ষেপ নেয়া অত্যন্ত জরুরি।স্বাধীনতা বিরোধীরা কখনোই সফল হয়নি ইন শা আল্লাহ এই বাংলার মাটিতে তারা কখনো সফল হবে না।

 

লেখক, সমাজসেবক ও রাজনৈতিক কর্মী

আপনার মতামত দিন:

শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ
themebaalokitokant1852550985
©2019-20 All rights reserved Alokitokantho