সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২, ১২:১২ অপরাহ্ন

রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ৩০ দশমিক ৩৪ শতাংশ

  • সর্বশেষ আপডেট বুধবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২২, ৯.০৪ পিএম
  • ৬৬ বার পড়া হয়েছে

আলোকিত কন্ঠ ডেস্কঃ

পোশাক রপ্তানির উচ্চ প্রবৃদ্ধির উপর ভর করে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) রপ্তানি আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছে ২ হাজার ৯৫৪ কোটি ৮৯ লাখ মার্কিন ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৬ দশমিক ১৭ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, একক মাস হিসেবে সর্বশেষ জানুয়ারি মাসে রপ্তানি আয় আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৪১ দশমিক ১৩ শতাংশ বেড়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুারোর (ইপিবি) সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৫৪৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ২ হাজার ৯৫৪ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। আর গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় ছিল ২ হাজার ২৬৭ কোটি ডলার। অন্যদিকে, জানুয়ারি মাসে ৪০৫ কোটি ১০ লাখ ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৮৫ কোটি ডলার। সুতরাং লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় গত মাসে রপ্তানি আয় ১৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি হয়েছে। গত অর্থবছরের জানুয়ারি মাসে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ৩৪৩ কোটি ৬৭ লাখ ডলার।

প্রধান রপ্তানি পণ্য পোশাক খাতের আয়ের উপর ভর করে মূলত উচ্চ প্রবৃদ্ধি আসছে বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা। তবে পোশাকের ইউনিট প্রতি মূল্য বৃদ্ধির পেছনে মূল ভূমিকা রাখছে বলে উদ্যোক্তাদের দাবি। এ বিষয়ে রপ্তানিমূখী পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি ফারুক হাসান বাসসকে বলেন, ‘ইউনিট প্রতি পোশাকের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানির অবস্থা ভাল। এছাড়া আমাদের প্রতি বৈশ্বিক ক্রেতাদের আস্থা বেড়েছে। যে কারণে আমরা এখন অনেক বেশি ক্রেতাদেশ পাচ্ছি।’ তবে পোশাকের দাম বৃদ্ধি পেলেও কাঁচামালের দাম অনেক বেড়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিসেবা এখন বেশ ভাল। উদ্যোক্তারা সহযোগিতা পাচ্ছে। পাশাপাশি ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অনেক সমস্যার সমাধান হয়েছে। যার সুফল পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু সরবরাহ কাঠামো নিয়ে এখনও আমরা উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, ভারত থেকে সুতা, তুলাসহ অনেক কাঁচামাল আমরা আমদানি করি। তাই বেনাপোল স্থলবন্দরে শুল্ক সংক্রান্ত কার্যক্রম আরও বেশি সহজ ও বন্দর আধুনিক করতে হবে।

তিনি আরও জানান, পোশাক রপ্তানি সম্প্রসারণে বিজিএমইএ পণ্য বহুমূখীকরণ, দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও বৈশ্বিক পর্যায়ে ব্রান্ডিংয়ের কাজ করছে।  বিকেএমইএ সহসভাপতি ফজলে শামীম এহসান মনে করেন করোনাভাইরাসের নতুন ধরণ ওমিক্রণ এর মধ্যেও আমাদের প্রধানতম পোশাক বাজারগুলোতে বাংলাদেশী পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। তারা সোসির্ং কান্ট্রি হিসেবে আমাদের উপর আস্থা রাখছে, যার ফলে অধিকহারে ক্রেতাদেশ পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া পোশাকের মূল্য বেড়ে যাওয়ার প্রভাব রপ্তানি আয়ের উপর পড়ছে বলে তিনি মনে করেন। তবে তিনি বলেন, পোশাকের মূল্য যেমন বেড়েছে, পাশাপাশি কাঁচামাল ও লজিস্টিক মূল্যও অনেক বেড়ে গেছে।

তিনি রপ্তানি খাতে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট পরিসেবা আরও সহজ ও সরকারের নীতি সহায়তা বাড়ানোর সুপারিশ করেন।ইপিবির হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী,  তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয় ও প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় দুই-ই বেড়েছে। ২ হাজার ৫৪ কোটি ৯১ লাখ ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৯৮ কোটি ৫২ ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩০ দশমিক ৩ শতাংশ। গতবছরের একইসময়ে এই খাতে রপ্তানি ছিল ১ হাজার ৮৪০ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। জুলাই-জানুয়ারি সময়ে নিট পণ্যের (সোয়েটার, টি-শার্ট জাতীয় পোশাক) রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ১৪১ কোটি লাখ ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ১ হাজার ৩২৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৮৯ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৯৯৮ কোটি ৯১ লাখ ডলার।

আলোচ্য সময়ে ওভেন পণ্যের (শার্ট, প্যান্ট জাতীয় পোশাক) রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৭ দশমিক ২৩ শতাংশ। ৯১৩ কোটি ৮৪ লাখ ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ওভেন পণ্য রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার কোটি ৭১ লাখ ডলারের। গতবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৮৪১ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। জুলাই-জানুয়ারি এই ৭ মাসে অন্যান্য পণ্যের মধ্যে প্লাস্টিক পণ্যের রপ্তানি আয় বেড়েছে। এই খাতে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৭৩ লাখ ডলার, যার প্রবৃদ্ধি ৩৮ দশমিক ৭ শতাংশ। কৃষিজাত পণ্য রপ্তানির আয় বেড়েছে উল্লেখ করার মত। এ সময়ে কৃষিজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৭৪ কোটি ৮৯ লাখ ডলারের, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ দশমিক ২৩ শতাংশ বেশি।

আলোচ্য সময়ে ৬৮ কোটি ২৭ লাখ ডলারের চামড়া ও চামড়জাত পণ্যের রপ্তানি হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ।এ সময়ে মাছ রপ্তানি হয়েছে ৩৭ কোটি ৭৯ লাখ ডলারের, যা গতবছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।এছাড়া টেরিটাওয়েল, সিরামিক, প্রকৌশল পণ্য, গ্লাস, বিল্ডিং নিমার্ণ সামগ্রী, হোম টেক্সটাইল, হস্তশিল্পসহ অধিকাংশ পণ্যের রপ্তানি আয়ও বেড়েছে।

আপনার মতামত দিন:

শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ
themebaalokitokant1852550985
©2019-20 All rights reserved Alokitokantho