বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২২, ১২:৫১ অপরাহ্ন

ব্যাতিক্রম হতে পারে নি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ও

  • সর্বশেষ আপডেট বুধবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২২, ৯.১৩ পিএম
  • ১৮৭ বার পড়া হয়েছে

ফাইজার মুহাম্মদ শাওলীন, জাবি প্রতিনিধিঃ

যেহেতু জাহাঙ্গীরনগর বাংলাদেশে অবস্থিত এবং যৌক্তিভাবেই তাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় তার সমসাময়িক অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আয়তন ও বাহ্যিক অবয়ব ছাড়া অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খুব একটা আলাদা হতে পারে নি। সেশন জট, হলে আবাসন সংকট, গণরুম সংস্কৃতি, ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের আধিপত্য, কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে  ঢাবি, চবি, রাবি, বুয়েট ইত্যাদি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে বেশ মিল রয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের।

বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয় কেন? রাষ্ট্র/সমাজ এর জন্য কল্যানমূলক চিন্তা ও কাজ করবে এমন এক শ্রেণির মানুষ তৈরির জন্য। একজন শিক্ষার্থী প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে আরও কয়েক বছর শিক্ষার্জনের জন্য বরাদ্দ করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে “ভাল” কিছু করবে। এই “ভাল” হিসেবে আভিধানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক, বুদ্ধিজীবি এবং উন্নত চিন্তার মানুষ গড়ে উঠার কথা থাকলেও তা এখন সার্টিফিকেট এবং সরকারি চাকরি কেন্দ্রীক হয়ে পরেছে অনেকটাই। দেশের এমত অবস্থায় প্রতিষ্ঠার ৫১ বছর পরও ব্যতিক্রম হয়ে উঠা সম্ভব হয় নি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে। এই দায় সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী সকলের উপরই বর্তায়।

জাবির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মানুষকে মোহিত করে রাখতে পারে। বার মাসই আলাদা আলাদা রূপে এই ক্যাম্পাস নিজেকে সাজিয়ে নেয়। শীত ঘুরে বসন্ত আসে, বছর ঘুরে নতুন বছর- কিন্তু মৌলিক বিষয়গুলো অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বের জায়গায় দূর্বলতা পরিবর্তন হয় না। গবেষণা খাতে বরাদ্দের অভাব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণায় অনীহা, গণরুম সংস্কৃতির থাবা, সেশন ইত্যাদি বিশ্ববিদ্যালয়কে কল্যানমূখী হতে আটকে দিচ্ছে যে মানুষের টাকায় চলছে বিশ্ববিদ্যালয়। সাধারন মানুষের ট্যাক্সের শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে নতুন নতুন হল, সমৃদ্ধ হচ্ছে প্রশাসনিক অফিসসমূহ, গ্রহন করা হচ্ছে নতুন নতুন প্রকল্প। এই টাকা তসরূফ করার অভিযোগও উঠছে অহরহ। তার উপর আছে সেশন জট। পাঁচ বছরের শিক্ষাজীবন শেষ হতে যখন ছয় বছরেরও বেশি সময় প্রয়োজন হয় তখন হতাশ হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যায্য না। গণরুম নামক কারাগারে প্রথম বর্ষের প্রায় পুরোটা কাটানোর পর অনেকেরই জীবন পালটে যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১০০ বছর পেরিয়ে যেন ধুঁকছে এখন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সকল ক্ষেত্রেই একই অবস্থা। বুয়েটের চিত্রও আবরার হত্যাকান্ডের পর সবার সামনে উঠে আসে। জাবিসহ অন্যান্য সব বিশ্ববিদ্যালয়েরই সাফল্যের তালিকাও রয়েছে। তবে সেসব সাফল্যের অধিকাংশই এতই ব্যক্তিগত ও বিচ্ছিন্ন যে বিশ্ববিদ্যালয় এই সাফল্যের অংশীদারিত্বের ক্ষুদ্র অংশই পায়। যার প্রমাণ বিশ্ব র‍্যাংকিং এ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অবস্থান!

মাত্র ৪ টি বিভাগ ও ১৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে ৫১ বছর পার করে এখন শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার, বিভাগ ও ইনিস্টিটিউট রয়েছে ৩৯ টি। শিক্ষক রয়েছেন প্রায় ৭ শত। সাতশ একরের এই ক্যাম্পাস দেশের পরিপ্রেক্ষিতে নিজের সুনাম ধরে রাখলেও সার্বিক বিচারে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতই মৌলিক কাজের ক্ষেত্রে ব্যর্থ। ৫১ তম জন্মদিনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য ও দূর্বলতা কাটিয়ে উঠবে এই কামনা করছি।

আপনার মতামত দিন:

শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ
themebaalokitokant1852550985
©2019-20 All rights reserved Alokitokantho