রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০, ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন

বিয়ে করতে মালেয়শিয়া যাচ্ছিলেন রোহিঙ্গারা

  • সর্বশেষ আপডেট বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২০, ৮.৪৯ এএম

আলোকিত কন্ঠ ডেস্ক।। বঙ্গপসাগরে ডুবে যাওয়া রোহিঙ্গা বোঝাই ট্রলারে ছিলেন ১৩৮ জন। যার বেশির ভাগই নারী। জানা গেছে, অনেকেই মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন বিয়ের পাত্রী হিসেবে।

এমন তথ্য জানান সেন্টমার্টিনে নৌবাহিনীর অফিসার ইন চার্জ লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এস এম জাহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, তিনি উদ্ধারপ্রাপ্তদের অনেকের সাথেই কথা বলেছেন এবং জানতে পেরেছেন, মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে এরা মাথাপিছু ৪০ হাজার করে টাকা দিয়েছিলেন দালালকে।

তবে কক্সবাজারে পুলিশের এসপি এবিএম মাসুদ হোসেন বলছেন, এদের সবাইই যে অর্থ ব্যয় করে মালয়েশিয়া যাচ্ছিল সেটা বলা যাবে না।

‘খেয়াল করে দেখবেন প্রচুর পরিমাণে তরুণী ছিল ট্রলারটিতে। এরা মূলত যাচ্ছিল তাদের হবু স্বামীদের কাছে।’

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় যেসব রোহিঙ্গা যুবক রয়েছেন, তারা অনেক সময় বিয়ের জন্য পাত্রী পান না। তারাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজেরা ব্যয় বহন করে রোহিঙ্গা তরুণীদের নিয়ে যান বিয়ের জন্য।

‘ক্যাম্প থেকে এভাবে বিয়ের জন্য পাত্রী নিতে মেয়ের বাবাকেই যৌতুক দেয় পাত্ররা’

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নারীদের বিয়ের পাত্রী হিসেবে মালয়েশিয়া যাওয়ার আগ্রহের প্রবণতা নতুন নয়।

গত বছর টেকনাফের ক্যাম্প থেকে পালিয়ে যাওয়া শত শত নারীকে আটক করে আবার ক্যাম্পে ফিরিয়ে এনেছিল বিজিবি, যারা বিয়ে করার জন্য মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন।

ওইসময় একজন রোহিঙ্গা তরুণী বলেছিলেন, তারা গরীব হওয়ার কারণে ভালো থাকার এটাই সেরা উপায় বলে মনে করেন। তিনি নিজেও বিয়ে করার জন্য মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করার সময় ধরা পড়েছিলেন।

তিনি বলেছিলেন, যাবার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু কপালে নেই।

সেসময় বিজিবির কর্মকর্তারা বলেছিলেন, মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর হাতে অনেক তরুণীর স্বামী মারা যাওয়ার কারণে টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরে পুরুষের চাইতে নারীর সংখ্যা বেশি। ফলে তাদের বিয়ের উপযুক্ত পাত্রের সংখ্যা কম। এজন্য তারা মালয়েশিয়ার যেতে আগ্রহী থাকেন।

ওদিকে মালয়েশিয়ায় যেহেতু বিয়ের উপযুক্ত রোহিঙ্গা পুরুষের জন্য পাত্রীর সঙ্কট, তাই তাদের কাছেও টেকনাফের ক্যাম্পের তরুণীদের চাহিদা থাকে।

এই দ্বিপাক্ষিক চাহিদা সৃষ্টি হওয়ার কারণে গত বছর থেকেই শরণার্থী শিবিরগুলোতে মানবপাচারকারী চক্রগুলোর কার্যক্রম ব্যাপকভাবে চলার বিষয়টি প্রকাশ পায়।

আর সেন্টমার্টিনের ট্রলারডুবির ঘটনায় এই প্রবণতা অব্যহত থাকার বিষয়টি সামনে এলো।

এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themebaalokitokant1852550985
©2019-20 All rights reserved Alokitokantho  
Devoloped by alokito kantho.com