শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
সাভার ও আশুলিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে বিদেশী বিয়ার ও ট্যাপেন্টাডল ও অস্ত্র সহ ৬জন আটক দুই শিক্ষার্থীকে বেঁধে মারধর, শিক্ষক আটক চলমান মহামারিই শেষ নয়, ভবিষ্যতের জন্যেও বিশ্বকে প্রস্তুত থাকতে হবে : ডব্লিওএইচও দেশের বিভিন্ন রুটে কমিউটার, মেইল, এক্সপ্রেস এবং লোকাল ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত দেশে করোনা সংক্রমণ কমেছে।। সরকার পরিবর্তন চাইলে বিএনপিকে নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।।কাদের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় প্রতিশ্রুত চাঁদার পরিমাণ বাড়াতে হবে : প্রধানমন্ত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা আজ জিসিএ’র আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে র্র্যাবের মাদক বিরোধী অভিযানে ফেন্সিডিল সহ আটক ১

পেঁয়াজের ‘ডাবল সেঞ্চুরি’: খাতুনগঞ্জে বিক্রি বন্ধ

  • সর্বশেষ আপডেট বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯, ৮.৪৮ পিএম
  • ৩০ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পেঁয়াজের দাম বাড়ার ক্ষেত্রে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে বৃহস্পতিবার। একদিনেই ‘পাগলা ঘোড়ার গতিতে’ বেড়েছে এর দাম। দিনশেষে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজির দাম সর্বোচ্চ ২২০ টাকায় উঠেছে। যা দিনের শুরুতে ছিল ১৬০-১৭০ টাকা।

পাইকারি বাজারগুলোতে সরবরাহ নেই- এমন তথ্য ছড়িয়ে দিলে খুচরা বাজারে প্রতি কেজির দাম গড়ে ৫০-৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দিনের শেষে দেশি পেঁয়াজ ২০০-২২০ টাকা এবং আমদানি করা পেঁয়াজ ১৮০-২১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এর আগে কখনও পেঁয়াজের দাম এমন অস্বাভাবিক হয়নি।

ব্যবসায়ীরা বলেছেন, পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ নেই বললেই চলে। সে জন্য খুচরা বাজারেও এর ঘাটতি প্রকট আকার ধারণ করেছে। ফলে এর দাম বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে।

এদিকে সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাজারে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি থাকার কথা নয়। চাহিদার তুলনায় আমদানি, উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পেঁয়াজের ঘাটতি রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী পাওয়া যাচ্ছে না। পাইকারি বাজারে বলতে গেলে পেঁয়াজ নেই। তবে রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে ও সুপারশপগুলোতে যথেষ্ট সরবরাহ রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দূরদর্শিতা, পরিকল্পনা ও তদারকির অভাবেই বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু অভিযান পরিচালনা করা হলেও তার কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া মাঠ প্রশাসন থেকে কোনো ব্যবস্থা নিলে সেগুলোকে কেন্দ্রীয়ভাবে নেয়া হয়েছে বিপরীতমুখী ব্যবস্থা। ফলে বাজারে এর দামে কোনো নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব হয়নি।

এদিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ‘মোবাইল টিম’ রাজধানীর শ্যামবাজারের পেঁয়াজের আড়তে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করায় ও অধিক মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করায় নিউ বাণিজ্যালয়কে ২০ হাজার টাকা, মেসার্স বাণিজ্যালয়কে ২০ হাজার, সিকদার অ্যান্ড সন্সকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে। তবে পাইকারি বাজারে সরবরাহ কম থাকায় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কম।

অভিযান শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মোবাইল টিমের সদস্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আবদুল জব্বার মণ্ডল বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে তারা অধিক মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করেছে। এ ছাড়া তারা মূল্যতালিকা প্রদর্শন করেনি। যে কারণে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের পাইকারি বাজারে মোবাইল টিম অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ করে দেন। এতে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের সংকট দেখা দেয়।

বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ পেঁয়াজ আমদানিকারকদের আমদানি শুল্ক শূন্য করে দেয়ার আহ্বান জানান। আর সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে ঝাঁজ বেশি হয়ে যাচ্ছে। মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের আরও তৎপর হওয়া উচিত।

এর আগে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ হুমায়ুন বলেন, শিগগির পেঁয়াজের মূল্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসবে। উপজেলা পর্যায়ে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, এখন লিন সিজন (পেঁয়াজের মৌসুম শুরু হওয়ার আগমুহূর্ত) চলছে।

এ সময় একটা সংকট থাকে। আমাদের নতুন পেঁয়াজ এখনও ওঠেনি। কিছুদিনের মধ্যে নতুন পেঁয়াজ উঠবে। তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় মিয়ানমার ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভারত থেকেও আমদানি চালু হয়েছে। পেঁয়াজের বাজার যেটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল, সেটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালু আছে, কোথাও কেউ যেন বেশি দামে বিক্রি করতে না পারে।

গত দেড় মাসের বেশি সময় ধরে পণ্যটির দাম বেড়েই চলেছে। সরকার কোনোভাবেই অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি লাগাম ধরে রাখতে পারছে না। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাজারগুলোতে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ২০০-২২০ টাকা দরে।

এদিন রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নয়াবাজার, সেগুনবাগিচা বাজার ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিসর থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ১৬০-১৭০ টাকা।

যা একদিন আগেও বিক্রি হয়েছে ১৩০-১৩৫ টাকা। মিয়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৮০ টাকা। যা একদিন আগে বুধবার বিক্রি হয় ১৪০ টাকা। এ ছাড়া দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২০০-২২০ টাকা। যা একদিন আগে বিক্রি হয়েছে ১৬০-১৭০ টাকা।রাজধানীর মুগদা মদিনাবাগ এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন যুগান্তরকে বলেন, গতকাল (বুধবার) এলাকার বাজারে ১৩০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনেছি। বৃহস্পতিবার সকালে ২২০ টাকা দরে কিনতে হয়েছে। বিকালে গিয়ে দেখি একাহালি পেঁয়াজ ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে ন্যায্যমূল্যে কেজি প্রতি ৪৫ টাকা দরে পণ্যটি কিনতে টিসিবির ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্রে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। কিন্তু সেখানে ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করেও চাহিদামতো পেঁয়াজ পাচ্ছেন না ভোক্তারা।

এদিকে পেঁয়াজের সংকট মেটাতে দেশের বড় বড় কয়েকটি কোম্পানিকে পেঁয়াজ আমদানির দায়িত্ব দেয়া হয়। এর মধ্যে কয়েকটি গ্রুপ প্রায় ১ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেয়। তাদের পেঁয়াজ দেশে আসতে আরও দু-সপ্তাহ লাগতে পারে। নতুন করে ছোট ব্যবসায়ীরা আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। যে কারণে সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সূত্র জানায়, দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ২৪ লাখ টন। এর মধ্যে দেশে উৎপাদন হয় ১৫-১৬ লাখ টন। বাকি ৮-৯ লাখ টন আমদানি করা হয়। কিন্তু চাহিদার বাইরেও সরবরাহ লাইনে থাকে আরও ৬-৭ লাখ টন। ফলে দেশে বছরে পেঁয়াজের দরকার হয় ৩০-৩১ লাখ টন।

উৎপাদনের বাইরে গত অর্থবছরে ১২ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এ হিসাবে দেশে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। ভারতে দাম বাড়ানোর আগেই যেসব পেঁয়াজ দেশে এসেছে সেগুলো এখনও রয়ে গেছে।

এ ছাড়া মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে কম দামে। কেননা তারা পেঁয়াজের দাম বাড়ায়নি। গত জুলাই-আগস্ট পর্যন্ত ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে গড়ে ২০-২২ টাকা কেজি দরে। ভারতে বন্যার কারণে পেঁয়াজের উৎপাদন কম হওয়ায় দাম বেড়ে যায়।ফলে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তারা পেঁয়াজ রফতানিমূল্য প্রতি টনের দাম ৪০০ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ ডলার করে। এতে দেশের বাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়তে থাকে। ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিলে এর দাম আরও বেড়ে ১২০ টাকায় ওঠে। পরে এর আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিলে দাম কিছুটা কমে। এখন আবার সরবরাহ সংকটের কারণে এর দাম হুহু করে বাড়তে থাকে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি ড. গোলাম রহমান যুগান্তরকে বলেন, সরকারের সব উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে। সরকার বলেছিল দেশের বড় ব্যবসায়ীদের পেঁয়াজ আমদানি করতে। সেটা মিডিয়ায় ঢালাওভাবে প্রচারও হয়েছে। কিন্তু ওনারা কি উদ্যোগ নিয়েছেন, সেটা জানা বড় জরুরি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার ব্যবসাবান্ধব। কিন্তু ব্যবসায়ীরা সরকারকে সহায়তা করছে না। তবে সরকার যদি নিজ উদ্যোগে আমদানি করত, তাহলে আজ পেঁয়াজের দর নিয়ে এ অবস্থায় আসত না। সরকার ব্যবসায়ীদের নানা ধরনের সহায়তা দিলেও ব্যবসায়ীরা সরকারকে সহায়তা করেছে তার বাস্তব প্রতিফলন আমরা দেখছি না। এ সব ব্যবসায়ীদের কারসাজি।

এদিকে রাজধানীর পাইকারি আড়ত শ্যামবাজার ও কারওয়ান বাজারের পাইকারি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশি পেঁয়াজ পাইকারি দরে এক পাল্লা (৫ কেজি) বিক্রি করছে ৯০০ টাকা। যা এক কেজির দাম হয় ১৮০ টাকা। মিসরের পেঁয়াজ এক পাল্লা (৫ কেজি) বিক্রি করছে ৭৫০ টাকা। যা এক কেজির পাইকারি দর হয় ১৫০ টাকা। এ ছাড়া পাইকারি আড়তে মিয়ানমারের পেঁয়াজের সরবরাহ লক্ষ করা যায়নি।

কারওয়ান বাজারের ৩৬নং আড়তের ব্যবসায়ী মো. আসিক বলেন, বাজারে কোনো ধরনের পেঁয়াজ নেই। যেখানে আড়ত পেঁয়াজে ভরা থাকে, সেখানে আড়ত পুরোটাই খালি। কারণ পেঁয়াজভর্তি ট্রাক আসছে না বললেই চলে। যা-ও আসছে যুদ্ধ করে পেঁয়াজ আড়তে আনতে হচ্ছে। আর দামও অনেক বেশি। তাই বেশি দরে পেঁয়াজ এনে আমাদেরও বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।

শ্যামবাজারের পেঁয়াজ আমদানিকারক শঙ্কর চন্দ্র ঘোষ যুগান্তরকে বলেন, পেঁয়াজের দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ শ্যামবাজারে পেঁয়াজ নেই। বর্ডার থেকে পেঁয়াজ আসছে না। ম্যাজিস্ট্রেটরা এখানে এসে জরিমানা করে গেছেন। যে কারণে আমদানিকারকও ভয়ে পেঁয়াজ আমদানি করছেন না। তাই বাজারে পণ্যটির যে পরিমাণে চাহিদা আছে, সে পরিমাণে সরবরাহ নেই। যার কারণে দাম বেশি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের মেসার্স বিএইচ ট্রেডিং অ্যান্ড কোম্পানির মালিক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মো. বাবুল হাসনাত যুগান্তরকে বলেন, পেঁয়াজের যে চালান আসছে তা চট্টগ্রামকেন্দ্রিক। চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোনো ধরনের পেঁয়াজের সরবরাহ নেই। গত ২০ দিনের মধ্যে ২ দিন গাড়ি এসেছে। তবে সামনে কিছু পেঁয়াজ আসবে। আর এলেও বেশি দামে আমদানি করতে হবে। আগামী ডিসেম্বরে বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসতে শুরু করবে। ওই সময়ে আমদানি করা পেঁয়াজও আসবে। তখন এর দাম কমতে পারে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামের পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে। মূল্য কারসাজিতে জড়িত আড়তদারদের বিরুদ্ধে অভিযান, জরিমানা করেও দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। উল্টো অভিযানের অভিযোগে দেশের সর্ববৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে অনেক ব্যবসায়ী পেঁয়াজ বিক্রিই এক প্রকার বন্ধ করে দিয়েছেন। এ কারণে সপ্তাহের শেষদিনে বৃহস্পতিবার পেঁয়াজের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ এখানে ১৭০-১৮০ টাকা তথা ডাবল সেঞ্চুরিতে বিক্রি হয়েছে। খুচরা বাজারে ২০০ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে।

খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস যুগান্তরকে বলেন, পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাড়ছে। এখানে আমাদের করার কিছুই নেই। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবারও মিয়ানমারের ১৬-১৭ ট্রাক পেঁয়াজ খাতুনগঞ্জে ঢুকেছে। এ ছাড়া মিসর থেকে আমদানি করা ২-৩ ট্রাক পেঁয়াজ খাতুনগঞ্জে এসেছে। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস।

খাতুনগঞ্জের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, যে পেঁয়াজ গতকাল সকালে পাইকারি বাজারে ১৬০-১৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে, তা দুপুরের পর কেজিপ্রতি মানভেদে ২০-৩০ টাকা বেড়ে গেছে। অথচ গত ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আড়তদারদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সেলিম হোসেন বলেছিলেন, খুচরা পর্যায়ে আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকার নিচে নেমে আসবে।

দুই সপ্তাহের মধ্যে দেশি পেঁয়াজ উঠবে। ভারতের পেঁয়াজও চলে আসবে। তখন পেঁয়াজের দাম পাইকারি বাজারে কেজি ৪০ টাকার নিচে নেমে যাবে। ওই সভায় পেঁয়াজের বাজার তদারকি করতে একটি মনিটরিং টিম গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু বাস্তব চিত্র তার উল্টো।

টেকনাফ প্রতিনিধি জানান, টেকনাফ স্থল শুল্ক স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ৩৪ হাজার ৪০০ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। টেকনাফের পেঁয়াজ আমদানিকারক এমএ হাসেম যুগান্তরকে বলেন, এখানে এলসির মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানি করা যায় না। ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে আমদানি করতে হয়। যে কারণে এক চালানে বেশি পরিমাণে পেঁয়াজ আনা সম্ভব হচ্ছে না। তবে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত আছে।

আপনার মতামত দিন:

শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ
themebaalokitokant1852550985
©2019-20 All rights reserved Alokitokantho